1. admin@samokalbarta.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাগুরায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনামূলক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন  জমকালো আয়োজনে মাগুরায় দৈনিক গণমুক্তির ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত  মাগুরায় চোরাই প্রাইভেটকারসহ আন্ত: জেলা ডাকাত দলের ২ সদস্য আটক মাগুরায় প্রবাসী লেখক এম ইসলাম মাসুদের মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  মাগুরায় স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা দূর করা সহ ১১ দফা দাবিতে গনকমিটির সমাবেশ অনুষ্ঠিত  অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন কাউন্সিলর সাকিব হাসান তুহিন  মাগুরায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন প্রয়োজন? মাগুরায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন প্রয়োজন? সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের নামে থানায় অভিযোগঃডিইউজের প্রতিবাদ মাগুরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিশিষ্ট সাংবাদিক এ্যাডঃ মনির ও এ্যাডঃ বাণীব্রত কুন্ডুর জয়লাভ

মাগুরায় কেন্দ্র ঘোষিত গণমিছিল করতে পারেনি জেলা বিএনপি

আজকের মাগুরা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৪৯ বার পঠিত
মাগুরায় বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। ২৪ শে ডিসেম্বর শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের ইসলামপুর পাড়ায় জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। তবে একই সময়ে শহরে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে যুবলীগ।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের চাপের মুখে তাঁরা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করতে পারেনি জেলা বিএনপি। ওই কর্মসূচির আগের রাতে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁরা এখনো কারাগারে। তবে পুলিশ বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।
 বেলা ১১টার দিকে শহরের ইসলামপুর পাড়ায় জেলা বিএনপির কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কার্যালয়ের সামনে পুলিশের একটি দল টহল দিচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আহসান হাবীবের বাড়ি থেকে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে কাউকে সংঘবদ্ধ হতে দিচ্ছিলেন না। স্থানীয় ব্যক্তিদের দ্রুত কাজ শেষ করে ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, বিএনপির নেতারা জড়ো হলেই তাঁদের আটকের নির্দেশনা দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
একই সময়ে শহরে জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেল মহড়া দিতে দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দিয়েও মিছিলটি যায়। এ সময় মিছিল থেকে সরকারবিরোধীদের হুঁশিয়ার করে নানা ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়।
জেলা বিএনপির নেতারা বলেন, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি বন্ধ করতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকির পাশাপাশি নানাভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এই কর্মসূচি ঘিরে শুক্র ও শনিবার অন্তত পাঁচজন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক জিহাদ হোসেন ও যুবদলের নেতা মো. বিল্লাল হোসেন। তাঁদের সবাইকে ২৮ আগস্ট সদর থানায় ছাত্রলীগের এক নেতার করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বিএনপির নেতারা বলেন, ২৭ আগস্ট শহরের ভায়না মোড়ে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। এতে বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাধিক মোটরসাইকেল, দলীয় কার্যালয় ও আশপাশের কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা। ঘটনার পরদিন ২৮ আগস্ট মাগুরা আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ মোল্লা উল্টো বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় বিএনপির ৩৬ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ১৩ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ ও সদস্যসচিব আকতার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি নেতা কারাবরণ করছেন বলে বিএনপির নেতারা দাবি করেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুর রহিমের মা রহিমা খাতুন  বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল বাড়িতে এসে রহিমকে খোঁজাখুঁজি করে। আমরা বলি, সে বাড়িতে নেই। কোথায় গেছে জানি না। তখন পুলিশের লোকজন হুমকি দিয়ে বলে, “কাল যদি আপনার ছেলে মিছিলে যায়, তাহলে বাড়ির সবাইকে ধরে নিয়ে যাব।”’
১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের পর কেন্দ্রঘোষিত দুটি কর্মসূচি ব্যর্থ হওয়ার পেছনে পুলিশের চাপের পাশাপাশি সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী করছেন কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, পুলিশের চাপ থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে বেশ কিছু কর্মসূচি সফল হয়েছে। কিন্তু এখন নেতাদের অনেকেই দায় এড়িয়ে চলছেন। জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা কারাগারে যাওয়ার পর ২২ ডিসেম্বর আহসান হাবীবকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।
বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ কামরুল হাসান বলেন, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এর সঙ্গে কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক নেই। আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা