মাগুরায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই রাতে ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ( দোকানে)চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র মধ্যরাতে শহরের দোকানগুলোর ক্যাশ বাক্স ভেঙ্গে ১৫ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
রবিবার দিবাগত রাতে চুরির শিকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে মাগুরা শহরের জামে মসজিদ সড়কের নিরো এন্টারপ্রাইজ, ভৌমিক স্টোর এবং কলেজ রোডের রুপম ইলেক্ট্রিক ও গোধূলী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট স্টোর। সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে গিয়ে তারা চুরির ঘটনা জানতে পারেন। পরে এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানায় পৃথক পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিরো এন্টারপ্রাইজ থেকে দোকান ঘরের শাটারের নিচে ইট দিয়ে শাটার বাকা করে প্রবেশ করে দোকানে থাকা নগদ বার লক্ষ বত্রিশ হাজার টাকা, জমির দলিলপত্র ও কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায় (যা দোকানের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ডকৃত)।ভৌমিক স্টোর দোকানের প্রবেশদ্বারের শাটার বাকিয়ে ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা টাকা চুরি হয়।
এছাড়া গোধূলী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দোকানের প্রবেশদ্বারের শাটার বাকিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা টাকা চুরি হয়। এছাড়াও, কলেজ রোডে রুপম ইলেকট্রনিক্স এ একই রকমের চুরির ঘটনা ঘটেছে।
নিরো এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার দোকান থেকে বার লক্ষ বত্রিশ হাজার টাকাসহ জমির দলিলপত্র ও কাগজপত্র চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, শহরের যেসব এলাকায় চুরি হয়েছে সেখান থেকে সদর থানা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব খুব বেশি নয়। পুলিশের দায়িত্ব পালনে অনীহা আছে বলে তাদের অভিযোগ। এক রাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এতগুলো চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
মাগুরা জেলা বণিক সমিতির আহবায়ক মুন্সি হুমায়ুন কবীর রাজা বলেন, "গতরাতে একই পোশাক পরিহিত শহরের বেশ কয়েকটি দোকানে চুরি হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী মহল যারা আছি, আমরা চাইবো নাইটগার্ডরা যেন যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে, এবং প্রশাসন যেন নিজেদের দায়িত্বে আরও কিছু ডিউটি বাড়ায়। নাইটগার্ড এবং পুলিশের সহযোগিতায় আমরা যেন মাগুরা জেলা শহরের ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও বসবাস করতে পারি। পাশাপাশি উক্ত চুরির ঘটনাতে আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।"
এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় নিযুক্ত নৈশ প্রহরা ব্যবস্থা জোরদার করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ ইউনুস আলী
ঠিকানা : আব্দুল মজিদ মার্কেট,
দ্বিতীয় তলা ভায়না মোড়, মাগুরা।