মাগুরা-২ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জমে উঠেছে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি । ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতির মাঠে বেশ সরব হয়ে উঠেছে । শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলা এবং সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে ধরা হলেও এবার পাল্টে গেছে চিত্র। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির আলোচিত তিন প্রার্থী , জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের একজন করে প্রার্থী এখনই মাঠে সক্রিয়।
স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৯ বার জয়লাভ করলেও, ২০০১ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয় পায় বিএনপি। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন, যিনি বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
এ আসন থেকে সর্বাধিক পাঁচবার এমপি হয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। তবে এবার তিনি কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই মাঠে নেই।
অন্যদিকে, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ইতোমধ্যেই বৃহৎ জনসভা করেছেন মহম্মদপুর ও শালিখায়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে জেল খেটেছেন তিনি। নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি দলের ৩১ দফা বাস্তবায়নে সক্রিয়।
কাজী কামাল বলেন, ‘দল যদি মনোনয়ন দেয়, আবারও মানুষের সেবা করতে চাই।’
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি বিগত সরকারের সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার এবং দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থেকে আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন। বর্তমান তিনি মাগুরা ২ আসনের রাজনীতিতে পা রেখেছেন । অতি অল্প সময়ে মাগুরা ২ আসনে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।বরাবরের মতোই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন ভাবে মানুষকে সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ২৪’র জুলাই আগস্ট আন্দোলনে মাগুরায় নিহত এবং আহতদের পরিবারকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন মহম্মদপুরের এই কৃতিসন্তান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম নয়ন।
রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘দলীয় কর্মীদের পাশে থাকাদের প্রাধান্য দেওয়া হলে মানুষ উপকৃত হবে। মনোনয়ন পেলে শতভাগ চেষ্টা করব।’
এদিকে ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা অভ্যন্তরিণ কোন্দল, গ্রুপিং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথিত নানা অপকর্ম সহ নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়লেও মাগুরায় জামায়াতে ইসলামী বেশ সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আমির ড. শফিককে নিয়ে মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে বিশাল জনসমাবেশের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছে দলটি।
এ আসনে মাগুরা জেলা জামায়াতের বর্তমান আমির এম বি বাকের কে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রার্থির বিজয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের সাংগঠিক ভিত মজবুত এবং দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী অমুসলিম শাখা গঠন করে সংখ্যালঘু শ্রেণি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সমর্থন পেতেও সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। জামায়াতের স্থানীয় শক্ত ভোটব্যাংকের কারণেই তার গুরুত্ব বাড়ছে। তিনি নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করছেন।
অপরদিকে, মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সামজিক ও মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. আলী আফজাল। কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আলী আফজালও প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে কোন দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে কি না এটা এখনো জানা যায়নি।
বিএনপি রাজনীতির সাথে সংযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ,সাবেক পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন ও ডিজিএফআই লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ হান্নান মৃধা (অব:) তিনিও মাগুরা ২ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী হতে চান।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালের আলোচিত ‘রাতের ভোটের’ পর মানুষ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারালেও বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এ আসনে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উৎসাহ ফিরিয়ে আনছে।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুজ্জামান বাচ্চুর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হন বিএনপির কাজী সালিমুল হক কামাল। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে এ আসনে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সড়ক উন্নয়নসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন।
এদিকে ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা অভ্যন্তরিণ কোন্দল, গ্রুপিং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথিত নানা অপকর্ম সহ নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়লেও মাগুরায় জামায়াতে ইসলামী বেশ সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আমির ড. শফিককে নিয়ে মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে বিশাল জনসমাবেশের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছে দলটি।
মাগুরা -২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী দিয়ে বিজয় লাভের মধ্যে দিয়ে নিজেদের সেই অবস্থানের জানান দিয়েছে দলটি। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামালকে প্রার্থী হিসাবে চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং নতুন নিবন্ধন পাওয়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট নাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ ইউনুস আলী
ঠিকানা : আব্দুল মজিদ মার্কেট,
দ্বিতীয় তলা ভায়না মোড়, মাগুরা।