মাগুরা সদর উপজেলার মাঝগ্রাম মধ্যপাড়া থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ বায়েজিদ বোস্তামি (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী বায়েজিদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির খড়ের গাদার ভেতর থেকে মরিচা ধরা সিলভার রঙের একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
গ্রেফতারের পর বিভিন্ন মিডিয়ায় বায়জিদ বোস্তামী কে জামায়াতের কর্মী বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের মাগুরা জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু সাঈদ বাচ্চু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে বায়জিদ বোস্তামীর সাথে জামায়াতে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই ,তিনি জামায়াতের কোন কর্মীও নন।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক এম.বি. বাকের বলেন “পরিকল্পিতভাবে তাঁকে জামায়াত কর্মী সাজিয়ে আটক করা হয়েছে। বায়েজিদ মূলত ক্ষমতাভিত্তিক সুবিধাবাদী একজন যুবক। আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ভাই ইউনুস ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রার্থী ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন কিন্তু সুবিধা করতে না পেরে আবার জামায়াতের নাম ব্যবহার করেন। অথচ জামায়াতের প্রকৃত কর্মী হতে হলে দীর্ঘ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। তাই সুবিধাবাদী ও সন্ত্রাসীরা যেভাবে নানা দলে ঘুরে বেড়ায়, তাদের কাউকে জামায়াতের কর্মী বলা ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলে “ক্ষমতার পালাবদলের সময় এ ধরনের সুবিধাবাদীরা নানা দলে ভিড়ার চেষ্টা করে। এরা কখনো আওয়ামী লীগে, কখনো বিএনপিতে আবার কখনো জামায়াতের নাম ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করতে চায়। কিন্তু জামায়াতের আদর্শিক কর্মী হওয়া এত সহজ নয়।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বায়েজিদের পরিবার মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর আপন বড় ভাই ইউনুস স্থানীয় ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকায় পরিচিতি ছিল আওয়ামী পরিবার হিসেবে। এ প্রেক্ষাপটে বায়েজিদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে,দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক।
মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন,
“বায়েজিদ একেক সময় একেক দলের সমর্থক ছিলেন। আগে আওয়ামী লীগ, পরে বিএনপি এবং সর্বশেষ জামায়াতের সমর্থক বলে পরিচয় দেন। আসলে তিনি মূলত একজন সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। মাগুরাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে পুলিশ সুপার বলেন, "আমার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছে আমি নাকি বলেছি সে জামায়াত ইসলামীর কর্মী, আমি কখনোই বলিনি সে জামায়াতের কর্মী, আমি বলেছি সে জামায়াত সমর্থক।"
তিনি আরও জানান, “বায়েজিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ ইউনুস আলী
ঠিকানা : আব্দুল মজিদ মার্কেট,
দ্বিতীয় তলা ভায়না মোড়, মাগুরা।