মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের নেবুলাইজার সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন নেবুলাইজার মেশিন স্থাপনের ফলে শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুদের চিকিৎসায় কিছুটা গতি ফিরেছে।
সোমবার (৪ মে) সকালে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খানের ভাই এবং মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুদ হাসান খান কিজিল শিশু ওয়ার্ডে দুটি স্ট্যান্ড নেবুলাইজার মেশিন স্থাপন করেন। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও একটি নেবুলাইজার মেশিন স্থাপন করেছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিশু ওয়ার্ডে মাত্র একটি নেবুলাইজার মেশিন সচল ছিল। ফলে শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের গ্যাস দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। জরুরি রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছিল।
সেবা নিতে আসা এক শিশুর অভিভাবক আকরাম হোসেন বলেন, “আগে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত গ্যাস পাওয়া যেত না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো। এখন নতুন মেশিন হওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে।”
নেবুলাইজার স্থাপনকারী মাসুদ হাসান খান কিজিল বলেন, “শিশুদের কষ্ট দেখে নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এমন জরুরি সরঞ্জাম সরকারের পক্ষ থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে নিশ্চিত করা উচিত।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ওয়ার্ডে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসে, তাতে একটি মেশিন দিয়ে চাপ সামলানো সম্ভব ছিল না। নতুন মেশিন যুক্ত হওয়ায় সেবার মান কিছুটা উন্নত হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামের এমন সংকট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্যক্তি উদ্যোগে সাময়িক সমাধান এলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।
মেশিন স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হান, পৌর কৃষকদলের সাবেক সভাপতি ও মাগুরা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের আলোচিত কাউন্সিল প্রার্থী রিপন আকাশ অপুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ ইউনুস আলী
ঠিকানা : আব্দুল মজিদ মার্কেট,
দ্বিতীয় তলা ভায়না মোড়, মাগুরা।