1. admin@samokalbarta.com : admin :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাগুরায় গোপালগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা গ্রেপ্তার শুভ জন্মদিন, সুমাইয়া মাগুরায় পূর্বের দ্বন্দ্ব মিমাংসায় বসার আগেই পুনরায় বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর,আহত ১ মৃত শ্রমিকের জানাজার আগেই পাওনা পরিশোধ, প্রতিশ্রুতি রাখলেন মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা মাগুরায় ট্রাফিক পুলিশকে লাঞ্ছিতের অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি বাস মালিক সমিতির সভাপতির মাগুরায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাগুরা বণিক সমিতির নির্বাচনে পাভেল হোসেনকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান মাগুরায় এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের পরও অকৃতকার্য, পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা মাগুরায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে পোনামাছ অবমুক্তকরণ পুনর্গণনার পরও বহাল ফলাফল, মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়সল ও সম্পাদক মারুফ

মৃত শ্রমিকের জানাজার আগেই পাওনা পরিশোধ, প্রতিশ্রুতি রাখলেন মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা

আজকের মাগুরা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮৯ বার পঠিত

কোনো শ্রমিক মারা গেলে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা পাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করতে হবে না—নির্বাচনের আগে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাগুরা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি ফয়সাল আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন তারা। কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার জানাজার আগেই পরিবারের কাছে ইউনিয়নের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন নবনির্বাচিত নেতারা।

এরই ধারাবাহিকতায় মাগুরা সদর উপজেলার সিরিজদিয়া এলাকার গাড়িচালক মোহাম্মদ ফিরোজ শেখের মৃত্যুর পর তার পরিবারের কাছে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার মোহাম্মদ মোকসেদ শেখের ছেলে ও পেশায় গাড়িচালক মোহাম্মদ ফিরোজ শেখ মারা যান। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি ফয়সাল আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন ফিরোজ শেখের বাড়িতে যান। সেখানে তারা তার অভিভাবকদের কাছে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেন।

এ সময় মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মনিরুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিয়ন নেতারা জানান, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ছিল—কোনো সদস্য মারা যাওয়ার পর তার পরিবারকে ইউনিয়নের পাওনা টাকা পেতে নানা ধরনের অপেক্ষা ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে মৃত শ্রমিকের পাওনা বছরের পর বছর আটকে থাকার অভিযোগও ছিল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের আগে শ্রমিকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন ফয়সাল আহমেদ খান ও মারুফ হোসেন।

তাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, ইউনিয়নের কোনো সদস্য মারা গেলে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে এবং জানাজার আগেই মৃত শ্রমিকের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হবে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই তারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর মাগুরা সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী এলাকায় মটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক সদস্য মারা যান। ওই শ্রমিকের পাওনাও জানাজার আগেই তার পরিবারের কাছে পরিশোধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের নেতারা।

মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা শ্রমিকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কোনো শ্রমিক মারা গেলে তার জানাজার আগেই ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তার পাওনা টাকা পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। একজন শ্রমিক সারাজীবন সংগঠনের সঙ্গে থাকেন। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।’

মারুফ হোসেন আরও বলেন, ‘এর আগে আমরা দেখেছি, কোনো কোনো মৃত শ্রমিকের পাওনা টাকা ২০ থেকে ৩০ বছরেও ঠিকমতো পরিশোধ হয়নি। এতে মৃত শ্রমিকের পরিবারকে অনেক কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য পাওনা দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই, কোনো শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে পাওনা টাকার জন্য আর অপেক্ষা করতে না হয়।’পাওনা টাকার জন্য অফিসে যেতে হবে না। তবে শ্রমিকের মাসিক চাঁদা পরিশোধ থাকতে হবে।

ইউনিয়ন নেতারা বলেন, একজন শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার যখন শোকের মধ্যে থাকে, তখন পাওনা টাকার জন্য তাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। তাই মৃত শ্রমিকের জানাজার আগেই পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চান তারা। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত নেতাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ। শ্রমিকদের মধ্যে এ নিয়ে সন্তোষও দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর হওয়ায় সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আস্থা বাড়ছে।

পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, একজন শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হলে পরিবারটি অন্তত কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পায়। তাই মৃত শ্রমিকের জানাজার আগেই পাওনা পরিশোধের উদ্যোগটি শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গত সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মাগুরা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন ফয়সাল আহমেদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মারুফ হোসেন। নির্বাচনের পর তারা শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৃত শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে একজন এবং অক্টোবর মাসে আরও একজন মৃত শ্রমিকের পরিবারের কাছে পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করেছেন তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা