
মাগুরায় সিনিয়র জেল সুপার পরিচয়ে কারাগারে থাকা আসামিদের স্বজনদের ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদকে ফোন করে কারাগারে থাকা এক আসামির বিরুদ্ধে কারারক্ষীকে মারধরের অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় ওই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়ে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। একপর্যায়ে ওই আসামির জামাতা আকিদুল ইসলামের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে ০১৭৮৬৪২০৬৩৭ নম্বর থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদের মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, কারাগারে আটক এক আসামি কর্তব্যরত কারারক্ষীকে মারধর করেছেন। এ কারণে ওই আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাঁকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে।
ফোনে এমন তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আসামির স্বজনদের দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে ওই আসামির জামাতা আকিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ফোন করা ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের সমস্যায় পড়তে হবে বলে হুমকিসূচক মন্তব্য করেন ।
পরে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে মাগুরা জেল সুপার মহিউদ্দিন হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, গুজব ও প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা বলে জানান।
জেল সুপার মহিউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ প্রতারণা ও দুষ্কৃতকারীদের কাজ। প্রায়ই আমাদের নাম ও পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করা হচ্ছে। এ ধরনের ফোনকলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও আসামিদের স্বজনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও জানান, কারা কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করলে তা বিশ্বাস না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করতে হবে।এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে আসামিদের স্বজনসহ সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেল সুপার মহিউদ্দিন হায়দার।
এদিকে কারা কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ফোন করে আসামির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, কারাগারে থাকা স্বজনদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে আসামিকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর, রিমান্ড কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয় সামনে এনে স্বজনদের মানসিক চাপে ফেলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযুক্ত মোবাইল নম্বরটি কার নামে নিবন্ধিত, ফোন করা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় কী এবং এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকলে বিভ্রান্ত না হওয়া, কোনো অর্থ লেনদেন না করা এবং যেকোনো তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply