1. admin@samokalbarta.com : admin :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে গোপনে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ, প্রেমিক পলাতক মাগুরায় সিনিয়র জেল সুপার পরিচয়ে আসামির স্বজনদের কাছে লাখ টাকা দাবি, সতর্ক করল কারা কর্তৃপক্ষ মাগুরায় হামলার শিকার সাবেক জেলা প্রশাসক মাগুরার শ্রীপুরে সাংবাদিকের জমির গাছ তুলে নিল দুর্বৃত্তরা মাগুরার শ্রীপুরে সংঘর্ষের নেপথ্যে দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করার চেষ্টায় সাংবাদিকের ওপর হামলা মাগুরায় মাদক উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি মাগুরায় গোপালগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা গ্রেপ্তার শুভ জন্মদিন, সুমাইয়া মাগুরায় পূর্বের দ্বন্দ্ব মিমাংসায় বসার আগেই পুনরায় বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর,আহত ১

আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে গোপনে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ, প্রেমিক পলাতক

আজকের মাগুরা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১৪ বার পঠিত

মাগুরায় বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া এক তরুণীকে চিকিৎসার কথা বলে  বেসরকারি আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গোপনে গর্ভপাত করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণীর গর্ভপাত করাতে ১৫ হাজার টাকায় চুক্তি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে প্রচণ্ড প্রসববেদনায় কাতর তরুণীকে ক্লিনিকে ফেলে পালিয়ে যান প্রেমিক। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

গত ১৯ অক্টোবর মাগুরা শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। অভিযুক্ত প্রেমিক রাকিব হাসান ওরফে ইফতেখার জাহান মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নোহাটা গ্রামের মৃত মান্নান শেখের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, রাকিবের সঙ্গে তাঁর চার থেকে পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের আশ্বাসে সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তবে প্রথমদিকে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সম্প্রতি শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে গত ১৯ অক্টোবর চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান রাকিব।প্রথমে মাগুরার শাহিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরীক্ষায় প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। এরপর রাকিব গোপনে গর্ভপাত করানোর পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ তরুণীর।

তাঁর দাবি, শাহিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিউটি নামের এক আয়ার মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে তাঁকে আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার কথা বলে স্যালাইন ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে কী উদ্দেশ্যে এসব ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল, তা তাঁকে জানানো হয়নি।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘আমাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে ১৯ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায় রাকিব। সেখানে আমাকে আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালের লোকজন স্যালাইন ও বিভিন্ন ওষুধ দেয়। তারা বলে, আমি শারীরিকভাবে দুর্বল, তাই স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে বুঝতে পারি, আমার সঙ্গে অন্য কিছু করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করছিলাম। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনছিল না। আমি অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিলাম।’

এদিকে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তরুণীর অভিযোগ, তাঁর মা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকপক্ষের অর্চনা রানী প্রকৃত অবস্থান গোপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন।
তরুণী বলেন, ‘আমার মা বারবার ফোন করছিলেন। কিন্তু অর্চনা রানী মাকে বলেন, আমি ঝিনাইদহে আছি, ঘুমিয়ে আছি, পরদিন বাড়ি ফিরব। অথচ তখন আমি ক্লিনিকের ভেতরে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলাম।’
পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ তরুণীর সন্ধানে তৎপরতা শুরু করলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ‘পুলিশ আমাকে খুঁজছে জানতে পেরে ক্লিনিকের লোকজন আমাদের বের হয়ে যেতে বলে। তখন আমার প্রচণ্ড প্রসববেদনা হচ্ছিল। কোথাও যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না। একপর্যায়ে আমাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রেখে আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় রাকিব আমাকে ফেলে পালিয়ে যায়।’
পরে মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াহিদুজ্জামান আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ পেয়ে তরুণীকে উদ্ধারে বের হই। হাসপাতালের পূর্ব পাশের কয়েকটি ক্লিনিকে খোঁজাখুঁজির পর আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাই। পরে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে আমার উপস্থিতিতেই তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন।’
এ ঘটনায় আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তরুণী বলেন, ‘আমার গর্ভে ছয় মাসের সন্তান ছিল। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ওষুধ প্রয়োগ করে আমার সন্তানকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি। আমার সঙ্গে চরম অন্যায় করা হয়েছে। আমি জড়িত সবার বিচার চাই।’

প্রেমিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অসুস্থ অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তরুণী বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক। আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু সে আমার সঙ্গে এমন আচরণ করবে, কখনো ভাবিনি। এখন শুনছি, সে আমাকে বিয়ে করবে না, কোনো দায়িত্বও নেবে না। আমার এত বড় ক্ষতি করে সে পালিয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকপক্ষের ক্যাপ্টেন ও অর্চনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা তরুণীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তাঁরা বলেন, ‘আমরা ওই তরুণীকে আমাদের এখানে ভর্তি করিনি। বিউটি নামের একজন তাঁকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’

তবে তরুণীকে ক্লিনিকের ভেতরে রেখে কার নির্দেশে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, চিকিৎসার দায়িত্বে কে ছিলেন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর  দিতে পারিনি তারা।

এদিকে শাহিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিউটি নামের ওই আয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তাঁদের ক্লিনিক ও ডাক্তারের সন্ধান দিয়েছি।’ তবে ১৫ হাজার টাকার চুক্তি ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

অভিযুক্ত রাকিব হাসান ওরফে ইফতেখার জাহানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পরে সরেজমিন শ্রীপুর উপজেলার নোহাটা গ্রামে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবরের পর থেকে তিনি বাড়িতে নেই।
এ বিষয়ে রাকিবের মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছেলে মানুষ, অপরাধ করে ফেলতে পারে। আমরা এগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
তবে রাকিব কোথায় রয়েছেন, কবে বাড়ি ফিরবেন কিংবা কীভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ বিষয়ে মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, ‘অভিযোগের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে দণ্ডনীয় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাগুরা জেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তারেক বলেন, ‘আমরা কোনো অপরাধীর পক্ষে নই। কেউ অপরাধ করে থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়ভার সংগঠন নেবে না।’

এ ঘটনায় সচেতন নাগরিকরা বলেন,বেসরকারি ক্লিনিকে এমন অনৈতিক কাজ,রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা গ্রহণের আগে সম্মতি, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান এবং চিকিৎসাসেবার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে তাঁর অজ্ঞাতে ওষুধ প্রয়োগ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর অন্যায় ও অনিয়মের বিষয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি। আদর্শ প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার গর্ভের সন্তানকে ওষুধ দিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কোনো নারীর সঙ্গে না ঘটে। আমি চাই, প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনুক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা