
মাগুরায় অটোরিকশায় ভুলবশত ফেলে যাওয়া লন টেনিস কিট বক্সসহ অন্যান্য মালামাল মাত্র ১৯ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অটোরিকশাটি শনাক্ত করে কিট বক্সটি উদ্ধার করা হয়।
মাগুরায় ১৮ জেলার ৭২ জন টেনিস খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৩য় টেনিস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন (টিএলএ) টেনিস টুর্নামেন্ট। ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে মাগুরা জেলা টেনিস ক্লাবের সেন্টার কোর্টে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটি শুরু হয়।
টুর্নামেন্টে পিরোজপুর জেলা থেকে অংশ নেন ৫৬ বছর বয়সী মো. গোলাম মোস্তফা। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে খেলা শেষে তিনি একজন সঙ্গীকে নিয়ে অটোরিকশাযোগে মাগুরা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের গেস্ট হাউজের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গেস্ট হাউজের সামনে পৌঁছানোর পর তারা অটোরিকশা থেকে নেমে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত অটোরিকশার ভেতরেই তার লন টেনিস কিট বক্সসহ অন্যান্য মালামাল রেখে যান। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে অটোরিকশাটি খুঁজতে শুরু করেন গোলাম মোস্তফা। তবে চালক বা অটোরিকশাটির কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি বিষয়টি মাগুরা জেলা পুলিশকে জানান।
পরে পুলিশ সুপার মাগুরা মোল্লা আজাদ হোসেন পিপিএম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে (সিসিআইসি) দ্রুত কিট বক্সটি উদ্ধারের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের তত্ত্বাবধানে সিসিআইসি মাগুরার এসআই অজয় দাসের নেতৃত্বে একটি দল উদ্ধার অভিযানে নামে।
দলের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অটোরিকশাটির গতিপথ শনাক্ত করেন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অটোরিকশার চালক মো. জসিম উদ্দিনকে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জসিম উদ্দিনকে হেফাজতে নিয়ে তার কাছ থেকে লন টেনিস কিট বক্সসহ হারানো মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।
হারানো কিট বক্স ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মো. গোলাম মোস্তফা। এ সময় তিনি দ্রুততম সময়ে তার মালামাল উদ্ধার করে দেওয়ায় মাগুরা জেলা পুলিশ ও সিসিআইসি সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কোনো নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হারিয়ে গেলে কিংবা কেউ কোনো হারানো জিনিস পেলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত। জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাগুরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক ও জনবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply