1. admin@samokalbarta.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাগুরায় ট্রাফিক পুলিশকে লাঞ্ছিতের অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি বাস মালিক সমিতির সভাপতির মাগুরায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাগুরা বণিক সমিতির নির্বাচনে পাভেল হোসেনকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান মাগুরায় এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের পরও অকৃতকার্য, পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা মাগুরায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে পোনামাছ অবমুক্তকরণ পুনর্গণনার পরও বহাল ফলাফল, মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়সল ও সম্পাদক মারুফ সার-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধান ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে মাগুরায় সমাবেশ মাগুরা জেলা বাস-মিনিবাস মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাগুরায় রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করলো পুলিশ বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে-মনোয়ার হোসেন

টানা দ্বিতীয় দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে দুর্বিষহ জনজীবন

যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৩ বার পঠিত

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এদিন দেশের সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা দুদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে যশোরজুড়ে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশা আর শীতল বাতাসের দাপটে জনজীবন হয়ে পড়েছে চরম দুর্বিষহ। এর প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষি এবং পশু-পাখির ওপরও।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী দিনে সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।
প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, সোয়েটার ও মাফলারে নিজেকে ঢেকে মানুষজনকে কাঁপতে কাঁপতে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেকে শীতের ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে ঘর থেকে বের হলেও কাজের সংকটে পড়ছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ।
যশোর শহরের লালদীঘি পাড় এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ শ্রমজীবী মানুষ কাজের আশায় জড়ো হলেও প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবুও কাজ না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ কাজের আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।
বাহাদুরপুর এলাকার শ্রমিক সুজন মিয়া বলেন, “শীতে একদিন কাজ পাই, তিনদিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। ভোরে এসে বসে থেকেও কোনো লাভ হচ্ছে না।”
নির্মাণ শ্রমিক মো. মিনহাজ জানান, “শীতে বাইরে দাঁড়ানোই কষ্টকর। তারপরও কাজের খোঁজে বের হয়েছি। কাজও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না।”
শংকরপুর এলাকার রঙমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম বলেন, “পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হয়েছি। কিন্তু এখনো কাজ পাইনি। শীতের মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
রায়পাড়া এলাকার রিকশাচালক হানেফ আলী জানান, “শীতে মানুষ বের হয় কম, যাত্রীও কম। আয় অনেক কমে গেছে। খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শীত থেকে বাঁচতে মানুষজনকে সারাদিন গরম পোশাক পরেই চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা শীতকালীন রোগ থেকে রক্ষা পেতে গরম কাপড় ব্যবহার, কুসুম গরম পানি পান এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী—
৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ,
৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ,
৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ,
এবং ৪ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা