
মাগুরার শ্রীপুর সরকারি এমসি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষ আবারও শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার ছাত্রীদের প্রতি অনভিপ্রেত আচরণ এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তেমনি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক প্রদীপ তাদের ভালো ফলাফল করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২০ সালে এমন একটি ঘটনার অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের মাধ্যমে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তার নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পায়। কমিটি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজও পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনানুগ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে, ১১ আগস্ট আবারও তিনি বিতর্কের জন্ম দেন। অভিযোগ উঠেছে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে এক ছাত্রীকে তিনি আপত্তিকর ও অনভিপ্রেত মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, শিক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন। তাই তারা বিষয়টি আইনি পথে না গিয়েই আপাতত ছেড়ে দেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমি তখন দায়িত্বে না থাকায় পূর্ববর্তী ঘটনাগুলো সম্পর্কে অবগত নই। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রদীপ কুমার ঘোষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম ও গৌরব আজ প্রশ্নের মুখে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।
Leave a Reply