নাজমুল তারেকের দাবি তদন্তে অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলেও তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগকারী তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারের দেওয়া বক্তব্য ও তথ্য তদন্তের সময় হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। ফেসবুক আইডি বন্ধ হয়ে যায়, মোবাইল নম্বরও বন্ধ থাকে। তদন্ত দল তাকে আর খুঁজে পায়নি। ফলে আরও ঘনীভূত হয় রহস্য অভিযোগকারী কেন হঠাৎ এভাবে অদৃশ্য হলেন?
নাজমুল বলেন, “শতভাগ ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার জীবনে ঝড় নেমেছে। সামাজিক আদালত বসিয়ে আমাকে দোষী বানানো হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত কমিটি কোনো প্রমাণই পায়নি যে আমি কোনো কটূক্তি করেছি। তবুও আমাকে কেন চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হলো না?”
তিনি জানান, ন্যায়বিচারের জন্য জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, অভিনেতা মিলন, সাজু খাদেম, চয়নিকা চৌধুরী, আশনা ভাবনা, জ্যোতিকা জ্যোতিসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন তিনি। কিন্তু তার ফাইল এখনও বিভিন্ন দপ্তরে পড়ে রয়েছে।
চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে স্ত্রী, নবজাতক সন্তান ও মাকে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন নাজমুল তারেক। তিনি বলেন, “আমি উল্টো পথে বাইক চালিয়েছি এটা আমার ভুল। কিন্তু ‘টিপ পরছ কেন’ এ ধরনের কোনো কথাই আমি বলিনি। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহিমা আক্তার লাকী যে ভিডিওর কথা বলেছেন, সে ভিডিও কোথায়? যদি সত্যি থাকে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।”
নাজমুল দাবি করেন, সেদিন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার বাইক লতা সমাদ্দারের পায়ে দুর্ঘটনাবশত লেগেছিল। তিনি ক্ষমা চাইতেই অভিযোগকারী তার ইউনিফর্মের শোল্ডার ধরে ফেলেন। পরে ‘টিপকাণ্ড’ সাজিয়ে বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়া হয়।
তার ভাষায়, “আমি দোষী হলে ট্রাফিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু চাকরি চলে যাওয়া—এটা অন্যায়। কারণ, তদন্ত রিপোর্ট আমাকে নির্দোষ বলেছে।”
চাকরি হারানোর পর দুই সন্তান, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন নাজমুল। তিনি বলেন, “আমি একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলাম। চাকরি চলে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন আমাকে যেন চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, “২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু ভুক্তভোগী বিচার পেয়েছেন, অনেকে চাকরিতে ফিরেছেন। আমার ফাইলটি কেন পড়ে থাকবে? আমিও ন্যায় চাই, সম্মান চাই, আমার চাকরি চাই।”
Leave a Reply