
মাগুরার শ্রীপুরের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা শিল্পপতি জাহিদুল ইসলাম ও তার শিল্পপতি ভাইদের বসত বাড়িতে এ হামলা ও ভাঙচুর করেছে একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা।গত সোমবার ঈদের রাতে হামলার পাশাপাশি এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।হামলা ও ভাঙচুর এবং হয়রানির শিকার হওয়া গার্মেন্টস মালিকদের সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে জানা গেছে,নিজের এলাকা কে ভালোবেসে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে প্রায় সাত একর জমির উপর তৈরি করা হয় ১০০% রপ্তানি মুখী তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্টাইলসস্মিথ স্যান এ্যাপারেলস লিমিটেড।এখানে তিন হাজার পাঁচশত শ্রমিক তৈরি করছে প্রতি মাসে ৭ লক্ষ পিস রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক। এই পোশাক কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মাগুরা জেলার বেকার নারী ও পুরুষেরা।
কারখানাটির সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ১৬৮০ জন পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছেন ১৮২০ জন নারী। নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি ফারুকুল ইসলামের ভাইদের স্বপ্ন ছিল নিজ এলাকার মানুষকে স্বাবলম্বী করা। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে স্টাইলস্মিথ সান এ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানাটি স্থাপন করেন ২০১৫ সালে।যেখানে কাজ করছেন ওই এলাকার স্থানীয় বেকার নারী-পুরুষ। বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে কারখানাটি এগিয়েও যাচ্ছে।
মালিক পক্ষের অভিযোগ,গত ৩১ মার্চ,২০২৫ ঈদের দিন সন্ধা আনুমানিক সাড়ে ছয়টায় চাঁদা না পেয়ে নোহাটা গ্রামের সন্ত্রাসী কনক এবং আমতলী গ্রামের সন্ত্রাসী ও স্বর্ণ চোরাকারবারী লিপ্টন এর নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দুষ্কৃতিকারী নিয়ে বাড়িতে অতর্কিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর,চুরি ও লুটপাট করে। বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী গার্মেন্টস মালিকদের মোবাইল ফোনে কল করে জানালে তারা এসে জানমাল বাঁচানোর তাগিদে তাদের লাইসেন্স কৃত অস্ত্র দিয়ে ছয় রাউন্ড ফায়ার করে সন্ত্রাসী দের পিছনে বাধ্য করে। পরবর্তীতে শ্রীপুর থানা পুলিশের উপস্থিতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।উক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট এর ঘটনায় গার্মেন্টস মালিকপক্ষ শ্রীপুর থানা একটি মামলা দায়ের করে।এই মামলা দায়েরের পর সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আবারো গার্মেন্টস মালিকদের বাড়ি ভাঙচুর ও তাদেরকে হত্যা ও হামলার হুমকি দেয়। কিন্তু মামলা না তুলে নেওয়াই গত ৮ এপ্রিল ৪০ জনকে আসামি করে মাগুরা কোটে একটি মিথ্যা,বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে।
প্রথমবার ভাঙচুর হয় ১ জুলাই ২০২৪ এরপর
দ্বিতীয়বার ভাঙচুর করা হয় ৩১ শে মার্চ ২০২৫ এমতাবস্থায় এই সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে মালিকপক্ষ মাগুরা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আসতে ও জান মালের ভয় পাচ্ছেন। মালিকপক্ষ যদি মাগুরা তাদের ফ্যাক্টরিতে আসতে না পারে তবে পত্র কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে এতে করে কারখানায় কর্মরত তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক তথা পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়বে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
অভিযোগে বর্ণিত আসামিদের পরিচয় তথ্য সূত্র জানা গেছে,মোঃ আনিচুর রহমান কনক (৪৩)যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শ্রীপুর উপজেলা শাখা।আওয়ামী লীগের আমলে সে সাবেক এমপি শেখরের এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুনুর রশিদ মুহিতের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে সাকিব আল হাসান মাগুরা এক আসনে নমিনেশন পাওয়ায় সে আওয়ামী লীগ নেতা কতুবুউল্লাহ ও রাজনের অনুসারী হয়ে যায়।মোঃ ইস্কট (৪০)আনিসুর রহমান কনকের সাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত।মো: রাসেল (৩৭)সব্দালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি।মো: সাবু মিয়া (৪৩) ও মো: লিপ্টন মিয়া (৩৫)আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাকিব আল হাসান এর পিতা কুটিল মিয়া ও আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরীয়তুল্লাহ রাজনের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তার অনুসারী ৩০০ লোক নিয়ে আমতৈল স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।মো: সোহাগ (৩৩)সব্দালপুর ইউনিয়ন জামাতের সূরা সদস্য।মো: তালেব (৩৭)সব্দালপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি।মো: শহীদ শেখ (৫০),মো: হাসেম জোয়ার্দার (৫৫),মো: রাশেদুল (৪৬)মো: আলিম,মিন্টু বিশ্বাস,কাশি বিশ্বাস (৫২) আওয়ামীলীগ সমর্থক ও অনুসারী।
এলাকায় চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট করা সহ সকল প্রকার আইন শৃঙ্খলা বিরুদ্ধি কাজে জড়িত থাকায় অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।তবে এ ঘটনায় এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে জানা গেছে,অত্র এলাকার গার্মেন্টস মালিকদের নিকটে মোটা অংকের চাঁদা দাবি সহ গার্মেন্টসে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পর পর দুইবার গার্মেন্টস মালিকদের বাড়িঘরে হামলা লুটপাট করে। তাদের চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী, মারমুখি এবং মানহানিকর আচরণের কারণে গার্মেন্টস মালিকরা এলাকায় আসতে ভয় পাচ্ছেন। উক্ত সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেওয়ার গার্মেন্টস মালিকদের কে চাপ দেয়। কিন্তু গার্মেন্টস মালিক মামলা না তুলে নেওয়াই গত ৮ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখ উপরন্তু মালিকদের তিন ভাই সহ আরও অনেককে আসামি করে মাগুরা কোটে একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে। অত্র এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উক্ত সঙ্ঘবদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
তবে এ বিষয় গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিপক্ষ মো: সাবু মিয়া (৪৩) বলেন,আমি ২০০১ সালে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করি ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের রাজনৈতির সাথে জড়িত ছিলাম। এরপরে কর্মের জন্য বিদেশ যাই।তাছাড়া আমি সাবেক সব্দালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। আওয়ামী লীগের মাগুরা ১ আসনের এমপি সাকিব আল হাসান এবং এবং আওয়ামী লীগের শ্রীপুর উপজেলার (আওয়ামী লীগের) কিছু লোকের সাথে ছবি নিয়ে আমাকে বিতর্ক করার চেষ্টা করছে একটি মহল।আমতৈল গ্রামে যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে এটা আওয়ামী লীগ বিএনপি’র দলীয় সংঘর্ষ।
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইদ্রীস আলী জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। কিছু দেশীয় অস্ত্র বাগানের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ১১ই এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা ,বিপিএম কে উক্ত ঘটনা অবগত করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, গার্মেন্টস মালিকের বসতবাড়িতে হামলায় অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামী গুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে।তবে আমরা অবগত হয়েছি উক্ত মামলার ঘটনায় গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিপক্ষ মাগুরা কোর্টে মামলা করেছে মামলাটির তদন্ত অধিন রয়েছে।তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশ্রয় দেবে না জেলা পুলিশ ।
Leave a Reply