
মাগুরায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতার ওপর হামলার হুমকি ও নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী শাহাদত হোসেন সদর উপজেলার শত্রুজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শত্রুজিতপুর ইউনিয়ন সভাপতি জাফর ইকবাল তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন।
শাহাদত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রবিবার সকালে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে তিনি সার কেনার উদ্দেশ্যে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে জাফর ইকবালের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার গতিরোধ করা হয়। এ সময় তাকে জামায়াতে ইসলামের পক্ষে ভোট না চাইতে নিষেধ করা হয় এবং ভবিষ্যতে ভোট চাইলে ‘খারাপ পরিণতির’ হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাফর ইকবাল তার ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামের পক্ষে ভোট চাওয়া থেকে বিরত রাখছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের দিন জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট হিসেবে প্রবেশ করতে এবং সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শাহাদত হোসেন জানান, এসব ঘটনার পর তিনি ও তার কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন এবং নির্ভয়ে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাফর ইকবাল নিজেকে ইউনিয়ন সভাপতি দাবি করে বলেন, “আমরা একই এলাকার লোক। একটু হালকা কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি বা ধমকি দেইনি।”
মাগুরা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম. বি. বাকের বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। হুমকি-ধামকি দিয়ে আমাদের ভোট চাওয়ার অধিকার থেকে বিরত রাখা যাবে না। আমরা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাব। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরপিওতে যে নির্দেশনা রয়েছে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply