
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে একদল কর্মীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ধোয়াইল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান উজ্জ্বল আক্তার কাফুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। বুধবার বিকেলে ধোয়াইল বাজারের একটি ঘরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্তত ১৫ নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি বৈঠক করছিলেন বলে খবর পায় পুলিশ।
খবরের ভিত্তিতে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ বিকেল ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে গ্রেপ্তার করা হলেও বৈঠকে উপস্থিত অন্যরা পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তারের পর কাফুরকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং হামলা চালায়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক রেজা লেনিন, ছাত্রদল নেতা আবু আম্মান ইউসুফ, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মশিউর রহমানসহ অন্যরা পুলিশের কাছ থেকে উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান ।
এ বিষয়ে আরিফুজ্জামান মিল্টনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এর আগেও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে আকাশ নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া, মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
Leave a Reply