
মাগুরা সদর উপজেলার ভাবনহাটি-টিওরখালী সড়কে ফটকি নদীর উপর ১৫০.২০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মাগুরা-০১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান।
সেতুটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মাগুরা। এটি সংস্থাটির চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য: ১৫০.২০ মিটার,প্রস্থ: ৯.৮০ মিটার,স্প্যান সংখ্যা: ৫টি,অ্যাবাটমেন্ট: ২টি পিয়ার: ৪টি,পাইল সংখ্যা: ৪৪টি।
সেতুটির নির্মাণকাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা-কামারজান (জেভি)। নির্মাণকাল নির্ধারণ ধরা হয়েছে ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং থেকে ০১ মার্চ ২০২৭ ইং পর্যন্ত।
সেতুটি নির্মিত হলে প্রায় ৭০টি গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষ সরাসরি যোগাযোগ সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে ভোগান্তি পোহানো এলাকাবাসীর জন্য এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
সেতু চালু হলে ভাবনহাটি-টিওরখালী সড়ক হয়ে আড়পাড়া, শালিখা, আলমখালী এবং ঝিনাইদহ কালীগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এছাড়া কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত ও স্বল্প খরচে বড় বাজার বা শহরে পৌঁছে দিতে পারবেন, ফলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। সেতু ও সংযোগ সড়কের আশেপাশের এলাকার জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং নৌকা বা সাঁকো পারাপারের ঝুঁকি থেকে মুক্তি—সব মিলিয়ে সেতুটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ.ন.ম. ওয়াহিদুজ্জামান, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবদুল্লাহ আল কবির এবং মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেরুন্নেসা।
এ সময় জমি অধিগ্রহণ জটিলতার বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এমপি মনোয়ার হোসেন খান এবং বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দেন।
Leave a Reply