1. admin@samokalbarta.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাগুরায় ট্রাফিক পুলিশকে লাঞ্ছিতের অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি বাস মালিক সমিতির সভাপতির মাগুরায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাগুরা বণিক সমিতির নির্বাচনে পাভেল হোসেনকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান মাগুরায় এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের পরও অকৃতকার্য, পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা মাগুরায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে পোনামাছ অবমুক্তকরণ পুনর্গণনার পরও বহাল ফলাফল, মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়সল ও সম্পাদক মারুফ সার-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধান ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে মাগুরায় সমাবেশ মাগুরা জেলা বাস-মিনিবাস মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাগুরায় রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করলো পুলিশ বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে-মনোয়ার হোসেন

যে কারাগারে কোনো দিন কয়েদি ছিলো না

আজকের মাগুরা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৫৫ বার পঠিত

প্রায় চার দশক আগে নির্মিত হয়েছিল একটি উপকারাগার—উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা পর্যায়ে বিচারিক কার্যক্রম সহজ করা এবং আসামি পরিবহনের ঝামেলা কমানো। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, সেই কারাগারটি এক দিনের জন্যও চালু হয়নি। নির্মাণের পর থেকেই সেটি তালাবদ্ধ পড়ে আছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাওইজানি গ্রামে অবস্থিত উপ-কারাগারটি এখন স্থানীয়দের চোখে ‘ভুতুড়ে বাড়ি’।

১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্মিত হয় এই উপ-কারাগার। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বোধনের আগেই মূল ফটকে ঝুলে যায় তালা।

২ দশমিক ৭১ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ছিল পুরুষ ও নারী কয়েদখানা, রান্নাঘর, কার্যালয় ভবন, নিরাপত্তা প্রহরীদের থাকার জায়গা, পাম্প হাউস ও কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টার। মোট ২০ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী কয়েদির জন্য জায়গা নির্ধারিত ছিল।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় চার দশক পর ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়েছে, দরজা-জানালা নেই, জায়গাজুড়ে জন্মেছে ঝোপঝাড়। ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী প্রশান্ত কুমার। তিনি পরিবারসহ কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত একটি কোয়ার্টারে থাকেন, যদিও ভবনগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।

২০০০ সালের দিকে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে সেখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এক বছরের মধ্যেই বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৩ সালে স্থাপনাটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়—উদ্দেশ্য ছিল সমাজসেবামূলক কাজে ব্যবহার করা। তবে দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন,
“নির্মাণের পর এক দিনও ব্যবহার হয়নি। এখন ভবনগুলো ধ্বংসের পথে। দরজা-জানালা নেই, ভিতরে জঙ্গল। দিনের আলোতেও ভয় লাগে। সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখা কষ্টদায়ক।”

মহম্মদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুর রব বলেন,
“স্থানটি আমাদের অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও জনবল না থাকায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তবে এটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, সংশোধনাগার বা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।”

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এমন ২৩টি উপ-কারাগার রয়েছে, যেগুলোর একটিও বর্তমানে কার্যকর নয়। পরিকল্পনার অভাব, নীতিনির্ধারণী অচলাবস্থা ও অবহেলাই এসব সরকারি স্থাপনাকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা