
সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে গ্যাস বিক্রি, ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ভোক্তার পকেট কাটার উৎসবে মেতেছিল এক গ্যাস ডিলার। তবে শেষ রক্ষা হলো না। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ফাঁস হয়েছে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম।
রোববার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত মাগুরা শহরের দোহারপাড় এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মেসার্স জেনারেল গ্যাস হাউজ নামের একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটি পাইকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে গ্যাস বিক্রি করছিল। এছাড়া শত শত গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ থাকলেও কতগুলো সিলিন্ডার রাখার অনুমতি রয়েছে—এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন প্রতিষ্ঠানের মালিক।
বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ওজন করে দেখা যায়, একাধিক সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম গ্যাস রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রতিষ্ঠানে থাকা একমাত্র অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটির মেয়াদ ২০২২ সালেই উত্তীর্ণ, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
এসব অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সৈয়দ খায়রুজ্জামানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ও ৫২ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোক্তা বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযানে মোট একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে এলাকায় অন্যান্য গ্যাস ডিলার, ভোগ্যপণ্য ও মুদি দোকান তদারকি করে ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply