
মাগুরার শ্রীপুর ও সদর উপজেলার সীমানা এলাকায় কলার হাটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত এড়ানো গেছে পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে। জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদের তৎপরতায় দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সকালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদের নির্দেশনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত মাঠে নামে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও সক্রিয় তৎপরতায় দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করা সম্ভব হয় এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো যায়।
এর আগে শুক্রবার (০১ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় একই ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন।
জানা যায়, প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত ওয়াপদা বাজার কলার হাট (শ্রীপুর উপজেলা) ও কছুন্দি বাজার কলার হাট (সদর উপজেলা) সাপ্তাহিকভাবে প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার বসে। দুটি হাটের খাজনা আদায় ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ফরিদপুরগামী কলা ব্যবসায়ীরা কছুন্দি হাট থেকে কলা কিনে যাওয়ার পথে ওয়াপদা বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানকার ইজারাদার পক্ষ তাদের কাছ থেকে পুনরায় খাজনা দাবি করে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষে কছুন্দি বাজার পক্ষের মাজেদ মোল্লা, বাহারুল ইসলাম লাড্ডু মোল্লা ও মাহাবুর রহমান আহত হন। অপরদিকে ওয়াপদা বাজার পক্ষের মনিরুজ্জামান মহব্বত, ঈশান মোল্লা, লাল চাঁন শেখ ও রিয়াদ মোল্লাসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
Leave a Reply