1. admin@samokalbarta.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাগুরায় ট্রাফিক পুলিশকে লাঞ্ছিতের অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি বাস মালিক সমিতির সভাপতির মাগুরায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাগুরা বণিক সমিতির নির্বাচনে পাভেল হোসেনকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান মাগুরায় এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের পরও অকৃতকার্য, পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা মাগুরায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে পোনামাছ অবমুক্তকরণ পুনর্গণনার পরও বহাল ফলাফল, মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়সল ও সম্পাদক মারুফ সার-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধান ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে মাগুরায় সমাবেশ মাগুরা জেলা বাস-মিনিবাস মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাগুরায় রিকশায় ফেলে যাওয়া টেনিস কিট ১৯ ঘণ্টায় উদ্ধার করলো পুলিশ বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে-মনোয়ার হোসেন

শ্রীপুরে স্কুলে হামলা, প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

সমকাল বার্তা ডেস্ত :
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৫১ বার পঠিত

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — শ্রীপুর উপজেলার নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সোমবার দুপুরে একটি সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনীর হোসেন (মনির) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে মারধর করে এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। আহত শিক্ষককে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।হামলার পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন শ্রীপুরের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নানের পক্ষের লোকজন, শিক্ষক প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সাইমন, যুবদল নেতা মিরান হত্যা মামলার পলাতক আসামি মহব্বত, নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সানরাইজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী কুতুবউদ্দিন লাভলু, এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ী।

এ হামলার পেছনে নাকি রয়েছে একটি চলমান দুর্নীতির তদন্ত, যেখানে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি শিপন মির্জা দাবি করেছেন, এই হামলা সেই তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। “প্রভাবশালীরা মিলে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস চালিয়েছে। এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না,” বলেন শিপন মির্জা।
হামলার সময় পুলিশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা
স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মালেক ও আরও দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা হামলাকারীদের ঠেকাতে পারেননি। এক প্রত্যক্ষদর্শী মিল্টন বলেন, “দুই শতাধিক লোক প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ঠেকাতে পারেনি। এটি সাধারণ মারামারি নয়, সরাসরি হত্যাচেষ্টা।”
এদিকে, হামলার সময় কেবল প্রধান শিক্ষকই নয়, ক্লাস টেনের শিক্ষার্থীরাও আঘাত পান । বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবর্ণা জামান ও লিপি বেগম জানান, হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদেরও পরিকল্পিতভাবে উসকে দিয়েছিল, যার ফলে পরীক্ষা ভঙ্গুর  হয়ে যায়।
অফিসকক্ষে ভাঙচুর, গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট
হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে ল্যাপটপ, ক্রীড়া সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করেছে। পরে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জোর করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রধান শিক্ষক মনিরের অভিযোগ
হামলার শিকার প্রধান শিক্ষক মুনীর হোসেন অভিযোগ করেছেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। “প্রথমে গালাগালি করা হয়, পরে চেয়ার দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়,” বলেন তিনি। “আমি আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাই,” বলেন মনির।
বিএনপি নেতা মহব্বতের দাবি
নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হামলার বিষয়ে আলাদা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, “শিক্ষার্থীরাই মূলত পরীক্ষার হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আমরা শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।” তবে এই বক্তব্যকে স্থানীয়রা সমর্থন করেনি।
উত্তেজনা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ
এ হামলার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ হামলার পেছনে যে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক জটিলতার হাত রয়েছে, তা পরিষ্কার হতে সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা