
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে উঠছে। দীর্ঘ এক মাস ধরে হাসপাতালের একমাত্র লিফটটি বিকল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিশেষ করে বয়স্ক, পঙ্গু, নারী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্ট্রেচার কিংবা কাঁধে করে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করাতে হচ্ছে, যা একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্টকর।
আজ (রবিবার) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক নারী রোগীকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামাচ্ছেন দুইজন লোক। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীর স্বজন। দৃশ্যটি ছিল হৃদয়বিদারক — ব্যথায় কাতর রোগী আর ক্লান্ত ও অসহায় মুখে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনরা যেন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার করুণ প্রতিচ্ছবি।
হাসপাতালের এক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “লিফটটি প্রায় এক মাস ধরে নষ্ট হয়ে আছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, “প্রতিদিন এইভাবে রোগীকে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো-নামানো খুবই কষ্টকর। অনেকেই চিকিৎসা নিতে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এর কোনো স্থায়ী সমাধান চাই।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত লিফটটি মেরামত না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে লিফট মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
রোগী ও তাদের স্বজনদের একটাই আবেদন— দ্রুত লিফটটি মেরামত করুন এবং হাসপাতালের জরুরি সেবা স্বাভাবিক রাখুন।
Leave a Reply