
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিসিবি’র বরাদ্দকৃত প্রায় ৭৮ মেট্রিক টন (প্রায় ৭৭.৮৩৫ মেট্রিক টন) চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ওই চালগুলো জুলাই মাসে এলাকায় থাকা ৮টি ইউনিয়নের ১৫,৫৬৭ জন স্মার্টকার্ডধারীর মধ্যে বিতরণ করার জন্য বরাদ্দ ছিল; কিন্তু বিতরণ না করে অবৈধভাবে মজুদ করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট ডিলার। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রশাসন গতকাল রাতের অভিযান চালায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনজুর রহমানের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং মজুদকৃত চাল উদ্ধার করে মহম্মদপুর ও বিনোদপুর খাদ্য গুদামে রাখা হয়েছে। উদ্ধার চালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকা।
ঘটনায় দায়ী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঋতু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ওএমএস ডিলার হোসেনিয়া কান্তী ঋতুর ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। তবুও সচেতন মহল অভিযোগ করছে, ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে যথেষ্ট তৎপরতা দেখানো হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে এবং গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্তকমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মজনুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান ও আইসিটি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তদন্ত শেষে মজুদকৃত চাল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বরাদ্দকৃত চাল না পৌঁছে পণ্য জবরদখলের এই ধাঁচের কাণ্ড পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সিন্ডিকেটের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত। তারা দাবি করেছেন, শুধুমাত্র ডিলারশিপ বাতিলই পর্যাপ্ত নয়—কারণ এতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে অন্য কেউ একই কাজ পুনরায় করতে পারে।
উপজেলা সূত্র জানায়, আটক বা গ্রেফতারের বিষয়টি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর নির্ধারিত হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আরো তৎপরতা দেখাবে—এটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অনুরোধ, বরাদ্দকৃত সহায়তা নির্ধারিত উপকারভোগীদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভবিষ্যতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
টিসিবির চাল অবৈধভাবে মজুদের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি এই সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
Leave a Reply