
মাগুরা পৌর বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৮ অক্টোবর, বুধবার। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামায় ইতোমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে পৌর এলাকার রাজনীতি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩৯ জন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৭১ জন করে।
সভাপতি পদে দুই প্রার্থী
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতিক মো. মাসুদ হাসান খান কিজিল (প্রতীক: আনারস) এবং সংগঠনের পরিচিত মুখ আশরাফুল ইসলাম (প্রতীক: মোটরসাইকেল)।
কিজিল বলেন, “অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং কর্মীবান্ধব জবাবদিহিমূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।”
অন্যদিকে আশরাফুল ইসলাম জানান, “সংগঠনের পুরনো কাঠামো পরিবর্তনের সময় এসেছে।”
সাধারণ সম্পাদক পদে ৭ প্রার্থী
সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন মোট সাতজন প্রার্থী। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মো. ফরিদ হাসান খান (প্রতীক: কাপ-পিরিচ)। তিনি বলেন, “মাগুরা পৌর বিএনপির ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনাই আমার অঙ্গীকার।”
অন্য প্রার্থীরা হলেন— হারুন-অর-রশিদ (মই), মুন্সী আঞ্জুম হাসান সুমন (চেয়ার), মোস্তাফিজুর রহমান খান মুস্তাক (দেয়াল ঘড়ি), তানবীর রহমান উজ্জ্বল (তালা), আবু সাঈদ আল মামুন (ঘোড়া) ও শেখ এনায়েত হোসেন (ছাতা)।
তরুণ প্রার্থী উজ্জ্বল বলেন, “ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছি। এখন তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে গতিশীল করতে চাই।”
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১০ প্রার্থী
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন ১০ জন প্রার্থী। আলোচনায় আছেন সাবেক যুব নেতা কাজী মাজহারুল হক উৎপল (ঘুড়ি) ও মো. উজ্জল হোসাইন (টিউবওয়েল)।
উৎপল বলেন, “আমি মাঠের কর্মী। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমার অগ্রাধিকার।”
অন্যদিকে উজ্জল হোসাইন বলেন, “এই পদ দায়িত্ব নয়, কর্মীদের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ। আমি সেটি বাস্তবায়ন করতে চাই।”
অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— আসলাম পারভেজ পলাশ (চশমা), মিজানুর রহমান তানজেলা (ফুটবল), কামরুজ্জামান মন্টু (দোয়াত-কলম), মতিউল ইসলাম চপল (উটপাখি), অ্যাডভোকেট ওবায়দা শহিদ (আম), মাহবুবুল আলম টিপু (রিকশা), তারিক বিন রহমান লুব্ধক (মাইক) ও লুৎফর রহমান (কলস)।
নির্বাচন পরিচালনা
কাউন্সিল পরিচালনায় দায়িত্বে আছেন মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে থাকবেন মো. শাহাজাহান মৃধা বাবলু। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. কবিরুল বাশার। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. সাইফুজ্জামান মন্ত্র, মো. রেজাউল ইসলাম, আবুল বাশার শিকদার ও মদন কুমার মণ্ডল।
তারা জানিয়েছেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রস্তুতি সম্পন্ন।”
নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে তৃণমূলে রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। কাউন্সিলকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করাই মূল লক্ষ্য।”
সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান জানান, “দলের নীতিমালার আলোকে তৃণমূলকে সংগঠিত করা হচ্ছে।”
যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির টিম প্রধান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সকলে মিলে কাজ করছি।”
নেতাকর্মীদের আশা, এবারের কাউন্সিলে একটি পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংগঠনে নতুন গতি আসবে।
Leave a Reply