
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা ও তিন নরডিক দেশের রাষ্ট্রদূত। সাবেক পরিবেশমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসভবনে সোমবার বিকেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা এবং নানা গুঞ্জন।
বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকল গুল ব্রানসেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকো লাক্স উইক এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্চিয়ান মোলার। বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ ‘অফ দ্য রেকর্ড’ এবং সেখানে কোনো দেশের পতাকা, কনভয় কিংবা দূতাবাসের চিহ্নিত গাড়ি দেখা যায়নি, যা বৈঠকের গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার নিয়ে সক্রিয় থাকা এই তিন কূটনীতিক এবার তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছেন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বৈঠকে মূলত আলোচনা হয়েছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন—নিষিদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুঁজছে কিনা, অথবা তারা নতুন কোনো কৌশলগত কাঠামোতে ফিরে আসার চিন্তা করছে কিনা। আলোচনায় উঠেছে দলটির ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তির’ নেতাদের নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের সম্ভাবনার বিষয়ও, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাবের হোসেন চৌধুরীর একটি গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ অবস্থান ও রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সাবের হোসেন চৌধুরী হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক মহলের চোখে একটি ‘সম্ভাব্য মধ্যপন্থার’ প্রতিনিধি। কেউ কেউ মনে করছেন, এই বৈঠক কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং “অপারেশন রিসেট বাংলাদেশ”-এর প্রথম দৃশ্য।
বৈঠক নিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বড় প্রশ্ন—ক্ষমতার ছায়াতল থেকে কে ফিরবে আবার কে হারিয়ে যাবে ইতিহাসের অন্ধকারে? গুলশানের আকাশে রাত নামছে, আর বাতাস ভারী হয়ে উঠছে সম্ভাব্য এক নতুন রাজনৈতিক চিত্রনাট্যের ইঙ্গিতে।
Leave a Reply