
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মাগুরায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
উক্ত র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর, জেলার বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহস্রাধিক শিক্ষক। র্যালি শেষে জেলা অডিটোরিয়ামে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন,
“শিক্ষক সমাজ জাতি গঠনের কারিগর। তাদের নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও আদর্শচর্চার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি আলোকিত সমাজ ও উন্নত রাষ্ট্র। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে নেতৃত্ব দেবে, আর সেই নেতৃত্ব গঠনে শিক্ষকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।”
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর বলেন,
“শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের দায়িত্ব অনেক বড়। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষক হোক শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উৎস।”
মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপিকা সরকার বলেন,
“বিশ্ব শিক্ষক দিবস আমাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পেশা কেবল চাকরি নয়, এটি একটি ব্রত। নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনা পারভীন বলেন,
“শিক্ষক শুধুমাত্র পাঠদানকারী নন, তিনি একজন পথপ্রদর্শক, মূল্যবোধ গড়ার কারিগর। বিশ্ব শিক্ষক দিবস আমাদের নতুন করে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো রেজাল্ট নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করার। একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষাজীবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভিত্তি গঠনে আমরা সর্বদা দায়বদ্ধ।”
দিবসটি ঘিরে শিক্ষকদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার (চ. দা.) প্রদ্যুত কুমার দাস, সহকারী পরিদর্শক শাহীন আল সাদী ও কিশোর কুমার দাস, ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মো. ইলতুৎমিশ জাহীদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ।
Leave a Reply