
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) তানভীর হাসান জোহার মালিকানাধীন ভবনে গভীর রাতে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার পর মাগুরা জেলা জজ আদালতের সামনে অবস্থিত ‘জোহা ভবনে’ এই নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২ লিটারের পানির বোতলে ভরে আনা অকটেন ব্যবহার করে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বোতলগুলো বসুন্ধরা লেখা সিমেন্টের ব্যাগে বহন করে দুর্বৃত্তরা ভবনের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে। পরে ভবনের মূল ফটক ও জানালার অংশে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ছুটে এসে পানি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পায় । তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মাগুরা শহরে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বজলু জানান,“প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ কোনো আগুন। পরে পানির বোতলে তেল দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় এটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ।”
ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত তরুণ ডেকোরেটরের মালিক তরুণ কুমার বলেন,“বাড়িতে কেউ না থাকায় সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।”
ভবনের কেয়ারটেকার ইনজার আলী বিশ্বাস বলেন,
“আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চৌরঙ্গীমোড়ে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত এসে দেখি জানালার অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় মুদি দোকানি প্রদীপ মণ্ডল জানান,
“রাত সাড়ে দশটার কিছু পরই আগুনের ঘটনা ঘটে।”
প্রতিবেশী কাজল বলেন,“প্রথমে মনে হয়েছিল সিগারেটের আগুন থেকে লেগেছে। কিন্তু পরে আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে দেখে সবাই মিলে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসি। তখন দুইটি ২ লিটারের বোতলে তেল আনার বিষয়টি চোখে পড়ে।”
ভবনটির তত্ত্বাবধানে থাকা তরুণ কুমার জানান, এ ঘটনায় জিডিসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন,“এটি একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
মাগুরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন,“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জজ আদালতের মতো সংবেদনশীল এলাকার সামনে এমন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply